
আরডুইনো (Arduino) কি? অল্প কথায়
আরডুইনো (Arduino) হলো একটি ওপেন-সোর্স ইলেকট্রনিক্স প্ল্যাটফর্ম, যা
সহজে প্রোগ্রামিং করা যায় এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস কন্ট্রোল করতে
ব্যবহৃত হয়। এটি প্রধানত হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার উভয় অংশ নিয়ে
গঠিত, যেখানে আরডুইনো বোর্ড মূল হার্ডওয়্যার এবং আরডুইনো আইডিই
(Integrated Development Environment) সফটওয়্যার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
আরডুইনো এর উপাদানসমূহ:
আরডুইনো বোর্ড: এটি মূল হার্ডওয়্যার যা মাইক্রোকন্ট্রোলার এবং বিভিন্ন ইনপুট/আউটপুট পিন সমন্বিত একটি সার্কিট বোর্ড।
উদাহরণ: Arduino Uno, Arduino Nano, Arduino Mega ইত্যাদি।
মাইক্রোকন্ট্রোলার: বোর্ডের প্রধান চিপ যা ডেটা প্রক্রিয়াজাত করে। Arduino Uno তে ATmega328P নামক মাইক্রোকন্ট্রোলার ব্যবহৃত হয়।
ইনপুট/আউটপুট পিন: বোর্ডে থাকা ডিজিটাল ও এনালগ পিনের মাধ্যমে সেন্সর, মোটর, এলইডি ইত্যাদি ডিভাইসের সাথে বোর্ড সংযোগ করা যায়।
পাওয়ার কানেকশন: বোর্ড পাওয়ার সোর্স (USB, ব্যাটারি ইত্যাদি) দ্বারা চালিত হয়।
আরডুইনো আইডিই (Arduino IDE):
এটি একটি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এনভায়রনমেন্ট যেখানে সহজ ভাষায়
প্রোগ্রাম লিখে আরডুইনো বোর্ডে আপলোড করা যায়। এখানে C++ ভিত্তিক একটি
প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহৃত হয়।
আরডুইনো কিভাবে কাজ করে:
সেন্সর
থেকে ডেটা সংগ্রহ: বোর্ডের সাথে সংযুক্ত সেন্সরগুলো যেমন তাপমাত্রা,
আর্দ্রতা, আলো সেন্সর ইত্যাদি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেন্সর থেকে আসা
ডেটা ইনপুট পিনের মাধ্যমে বোর্ডে প্রবেশ করে।
প্রোগ্রাম অনুযায়ী প্রক্রিয়াকরণ:
বোর্ডে লোড করা প্রোগ্রাম অনুযায়ী মাইক্রোকন্ট্রোলার সেই ডেটা
প্রক্রিয়াকরণ করে। প্রোগ্রামে ইনপুট ডেটা কীভাবে হ্যান্ডেল হবে এবং কীভাবে
আউটপুট দেবে তা নির্ধারণ করা হয়।
আউটপুট ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ: প্রক্রিয়াজাত ডেটা অনুযায়ী বোর্ড আউটপুট ডিভাইসগুলো যেমন মোটর, এলইডি, ডিসপ্লে ইত্যাদিকে নিয়ন্ত্রণ করে।
লুপ প্রোগ্রামিং: Arduino তে একটি লুপ ফাংশন থাকে যা বারবার চলে, ফলে এটি সেন্সর থেকে নিয়মিত ডেটা নিতে এবং প্রক্রিয়াজাত করতে পারে।
উদাহরণ:
একটি এলইডি জ্বালানো:
▶️আরডুইনো বোর্ডের একটি ডিজিটাল পিনের সাথে এলইডি সংযোগ করতে হবে।
▶️একটি প্রোগ্রাম লেখা হবে যাতে বলা হবে কিভাবে এলইডি অন বা অফ করা হবে।
▶️প্রোগ্রামটি আরডুইনো আইডিই থেকে বোর্ডে আপলোড করা হবে।
▶️বোর্ড পাওয়ার পেলেএলইডি অন এবং অফ হবে প্রোগ্রামের নির্দেশনা অনুযায়ী।
সংযোগ পদ্ধতি:
সার্কিট ডায়াগ্রামে, আমরা LED এর সাথে সিরিজে একটি
330-ওহম প্রতিরোধক ব্যবহার করেছি। এই রোধকে কারেন্ট-লিমিটিং রোধও বলা হয়।
LED এর অ্যানোড (লম্বা পিন) রোধের এক প্রান্তের সাথে সংযুক্ত থাকে এবং
ক্যাথোড (খাটো পিন) মাটির সাথে সংযুক্ত থাকে। রোধের অপর প্রান্তটি Arduino
পিনের সাথে সংযুক্ত। একটি ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা নিম্নরূপ:
১. LED সংযোগ:
LED কে ব্রেডবোর্ডের সাথে সংযুক্ত করুন। LED-এর দুটি পা রয়েছে, যার মধ্যে
লম্বাটি অ্যানোড (ধনাত্মক) এবং ছোটটি ক্যাথোড (নেতিবাচক)।
২. প্রতিরোধক
সংযোগ: LED এর অ্যানোডের মতো ব্রেডবোর্ডের একই সারিতে রোধের এক প্রান্ত
ঢোকান। প্রতিরোধকের অন্য প্রান্তটি Arduino এর ডিজিটাল আউটপুট পিনের সাথে
সংযুক্ত করা উচিত।
৩.গ্রাউন্ড (GND) সংযোগ: LED এর ক্যাথোডের মতো একই
সারি থেকে যেকোনো Arduino বোর্ড GND (গ্রাউন্ড) পিনের সাথে একটি জাম্পার
তার সংযুক্ত করুন। এটি সার্কিটটিকে আরডুইনোর মাটিতে সংযুক্ত করে।
ব্যবহার:
প্রকল্প তৈরি: রোবোটিক্স, অটোমেশন, ড্রোন তৈরি ইত্যাদিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।
প্রোটোটাইপিং: নতুন ইলেকট্রনিক প্রজেক্ট বা আইডিয়া দ্রুত পরীক্ষা করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
শিক্ষামূলক কাজ: ইলেকট্রনিক্স, প্রোগ্রামিং শেখানোর জন্য এটি একটি জনপ্রিয় টুল।
সুবিধা:
সহজ প্রোগ্রামিং: আরডুইনোর প্রোগ্রামিং তুলনামূলকভাবে সহজ।
ওপেন-সোর্স প্ল্যাটফর্ম: ব্যবহারকারীরা কোড ও হার্ডওয়্যার উন্মুক্তভাবে পরিবর্তন করতে পারেন।
ব্যাপক কমিউনিটি সাপোর্ট: অনলাইনে প্রচুর টিউটোরিয়াল ও সাহায্য পাওয়া যায়।
Arduino বোর্ড সহজ ও সাশ্রয়ী হওয়ায় এটি ইলেকট্রনিক্স শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ জনপ্রিয় একটি মাধ্যম।