আমাদের অর্ডার প্রসেসিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সকল অর্ডারের বিপরীতে সম্মানিত ক্রেতাগণকে যথাশীঘ্রই কল করা হবে। নিশ্চিত ডেলিভারীর লক্ষ্যে সকল অর্ডারে ১২০ টাকা অগ্রিম প্রযোজ্য। রেগুলার ডেলিভারী: ঢাকার মধ্যে ৬০ টাকা, সাব-এরিয়া: ৮০ টাকা, অন্যান্য জেলা: ১২০ টাকা। ১০০০ টাকার অর্ডারে অর্ধেক চার্জ এবং ২৫০০ টাকার অর্ডারে ফ্রি হোম ডেলিভারী! সেরা দামে উচ্চ মানের ইলেক্ট্রনিক্স পেতে MakersBD'র সাথে থাকুন। ধন্যবাদ
Home / Blog / অডিও এম্পলিফায়ারের শ্রেণিবিন্যাস। ক্লাস A, B, AB, C, D, G-H, S এর মধ্যে পার্থক্য কি?
অডিও এম্পলিফায়ারের শ্রেণিবিন্যাস। ক্লাস A, B, AB, C, D, G-H, S এর মধ্যে পার্থক্য কি?


অডিও এম্প্লিফায়ার (Audio Amplifier) বিভিন্ন ধরণের হতে পারে, এবং প্রতিটির নির্দিষ্ট কাজ এবং বৈশিষ্ট্য রয়েছে। মূলত এগুলো শ্রেণি (Class) এবং ব্যবহারের ভিত্তিতে ভাগ করা হয়। নিচে এর প্রধান ধরণগুলো বর্ণনা করা হলো:


১. ক্লাস-এ (Class A):

বৈশিষ্ট্য:

কাজের ধরণ: সবসময় পূর্ণ পাওয়ারে কাজ করে, এমনকি ইনপুট সিগন্যাল না থাকলেও।

আউটপুট: খুবই পরিষ্কার এবং লিনিয়ার সিগন্যাল।

ব্যবহার: উচ্চ মানের অডিও সিস্টেম এবং প্রিমিয়াম সাউন্ড সিস্টেম।

সুবিধা: চমৎকার শব্দ গুণমান এবং কম ডিস্টর্শন।

অসুবিধা: অনেক বেশি তাপ উৎপন্ন করে এবং বিদ্যুৎ অপচয় বেশি।


২. ক্লাস-বি (Class B):

বৈশিষ্ট্য:

কাজের ধরণ: পজিটিভ এবং নেগেটিভ সিগন্যালকে আলাদা করে এম্প্লিফাই করে।

আউটপুট: কিছুটা ডিস্টর্শন থাকতে পারে।

ব্যবহার: মধ্যমানের অডিও সিস্টেম এবং রেডিও ট্রান্সমিশন।

সুবিধা: Class A এর তুলনায় কম বিদ্যুৎ অপচয়।

অসুবিধা: "ক্রসওভার ডিস্টর্শন" দেখা দিতে পারে (সিগন্যালের পজিটিভ ও নেগেটিভ অংশ মিলানোর সময় সমস্যা)।


৩. ক্লাস-এবি (Class AB):

বৈশিষ্ট্য:

কাজের ধরণ: Class A এবং Class B এর মিশ্রণ। এটি কম বিদ্যুৎ খরচে ভালো মানের সিগন্যাল আউটপুট দেয়।

আউটপুট: ক্লিন অডিও এবং লো ডিস্টর্শন।

ব্যবহার: হোম থিয়েটার, স্পিকার সিস্টেম।

সুবিধা: উচ্চ দক্ষতা এবং ভালো শব্দ গুণমান।

অসুবিধা: Class A এর তুলনায় কিছুটা কম শব্দ মান।


৪. ক্লাস-সি (Class C):

বৈশিষ্ট্য:

কাজের ধরণ: খুবই অল্প সময়ের জন্য সিগন্যালকে এম্প্লিফাই করে।

আউটপুট: সাধারণ অডিওর জন্য ভালো নয়, তবে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি (RF) সিগন্যালের জন্য উপযুক্ত।

ব্যবহার: রেডিও ট্রান্সমিটার এবং টেলিভিশন।

সুবিধা: খুবই উচ্চ দক্ষতা।

অসুবিধা: উচ্চ ডিস্টর্শন এবং সাধারণ অডিওর জন্য ব্যবহার অযোগ্য।

৫. ক্লাস-ডি (Class D):

বৈশিষ্ট্য:

কাজের ধরণ: ডিজিটাল অডিও সিগন্যালকে PWM (Pulse Width Modulation) বা Switched Signal এ পরিবর্তন করে।

আউটপুট: উচ্চ দক্ষতা এবং কম তাপ উৎপাদন।

ব্যবহার: পোর্টেবল ডিভাইস, ব্লুটুথ স্পিকার, স্মার্টফোন।

সুবিধা: ছোট আকৃতি, কম বিদ্যুৎ খরচ, এবং কম তাপ।

অসুবিধা: Class A বা AB এর মতো উচ্চমানের শব্দ আউটপুট দিতে সক্ষমতা ছিলো না কিন্তু বর্তমানে Class D এম্পলিফায়ারসমূহ উন্নত সংস্ককরণে বাজারজাত করা হচ্ছে,যেগুলো উচ্চমাত্রার শব্দ উৎপন্ন করতে সক্ষমতা অর্জন করায় জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম, হোম থিয়েটার সিস্টেমসহ অডি সংশ্লিষ্ট প্রচুর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।


৬. ক্লাস-জি এবং ক্লাস-এইচ (Class G and Class H):

বৈশিষ্ট্য:

কাজের ধরণ: Class AB এর উন্নত সংস্করণ। এটি পাওয়ার সাপ্লাই ভোল্টেজ পরিবর্তন করে কার্যক্ষমতা বাড়ায়।

আউটপুট: ভালো শব্দ গুণমান এবং লো পাওয়ার লস।

ব্যবহার: হাই-এন্ড অডিও সিস্টেম।

সুবিধা: উচ্চ দক্ষতা এবং শক্তি সাশ্রয়ী।

অসুবিধা: জটিল নকশা এবং ব্যয়বহুল।


৭. ক্লাস-এস (Class S):

বৈশিষ্ট্য:

কাজের ধরণ: ডিজিটাল সিগন্যাল প্রসেসিং (DSP) এর মাধ্যমে কাজ করে।

আউটপুট: উচ্চ দক্ষতা এবং ফিল্টারড আউটপুট।

ব্যবহার: বিশেষায়িত অ্যাপ্লিকেশন যেমন স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন।

সুবিধা: খুব উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি কাজের জন্য উপযোগী।

অসুবিধা: অডিওর জন্য সাধারণত ব্যবহৃত হয় না।


ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে ধরণসমূহ:

১. ইনটিগ্রেটেড এম্প্লিফায়ার:

প্রি-অ্যাম্প এবং পাওয়ার অ্যাম্প একসাথে।

ব্যবহার: হোম অডিও সিস্টেম।


২. প্রি-অ্যাম্প (Pre-Amplifier):

ইনপুট সিগন্যালকে এম্প্লিফাই করে পাওয়ার অ্যাম্পে পাঠায়।

ব্যবহার: মাইক্রোফোন, টার্নটেবল।


৩. পাওয়ার অ্যাম্প (Power Amplifier):

ইনপুট সিগন্যালকে বড় আকারে এম্প্লিফাই করে স্পিকারে পাঠায়।

ব্যবহার: বড় সাউন্ড সিস্টেম, কনসার্ট।


৪. হেডফোন অ্যাম্প:

হেডফোনের জন্য নির্দিষ্ট।

ব্যবহার: স্টুডিও ও ব্যক্তিগত অডিও।


উপসংহার:

অডিও এম্প্লিফায়ারের ধরণ নির্ভর করে এর প্রয়োজনীয়তা ও ব্যবহারের ক্ষেত্রের উপর। যদি শব্দ গুণমান গুরুত্বপূর্ণ হয়, তবে Class A বা Class AB বেছে নিন। তবে পোর্টেবিলিটি ও শক্তি সাশ্রয়ের জন্য Class D আদর্শ।